দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। প্রযুক্তিটির দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ এবং এআই খাতের কয়েকজন শীর্ষ নেতার উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বানের মধ্যেই সোমবার তারা এ অবস্থান জানান।
ওবামা বলেন, এআইয়ের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা, কর্মসংস্থান ও শিশুদের ওপর এর প্রভাব বিবেচনা এবং প্রযুক্তিটির সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে ওয়াশিংটনের নেতাদের এখনই কার্যকর আইন ও নীতিমালা প্রণয়নে উদ্যোগী হতে হবে। তার মতে, এআইকে আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তবে প্রযুক্তিটি কীভাবে তৈরি ও ব্যবহৃত হবে, সে বিষয়ে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এআই নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রযুক্তি মহলে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে কয়েকজন রাজনীতিক ও প্রযুক্তি নির্বাহী শিল্পখাতের ওপর আরও সরকারি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানাচ্ছেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগকে ধাপ্পাবাজি এবং অসুস্থ ষড়যন্ত্র বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গত সপ্তাহে একটি ব্যক্তিগত তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিসের সঙ্গে বক্তব্য দেওয়ার সময় ওবামা বলেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও এআইকে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বিষয় করা উচিত।
সোমবার ওবামার সঙ্গে একই সুরে কথা বলেন হ্যারিস। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত এই সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টকে ২০২৮ সালের নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি এআই উন্নয়নের গতি সাময়িকভাবে কমানোর পক্ষে মত দেন, যাতে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তৈরি করা যায়।
হ্যারিস বলেন, এআইয়ের অগ্রগতির গতি উদ্বেগজনক। প্রযুক্তির উন্নয়ন দায়িত্বশীলভাবে ধীর করা জরুরি, যাতে এটি জনস্বার্থে ব্যবহৃত হয়।
তিনি মার্কিন কংগ্রেসকে এআই তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি চীনের মতো দেশগুলোর সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির উদ্যোগ নিতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এআইয়ের বিপজ্জনক ব্যবহার বন্ধ, উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং পরীক্ষার জন্য বৈশ্বিক মানদণ্ড তৈরির প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন হ্যারিস।
তবে ট্রাম্প এআই উন্নয়নে গতি কমানো বা নতুন নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছেন। সাম্প্রতিক একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি বলেন, এআইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় একমাত্র নিয়ন্ত্রণ হলো একজন শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান প্রেসিডেন্ট। এআই ও ডেটা সেন্টারবিরোধী একটি ষড়যন্ত্র চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্পের অবস্থানের বিপরীতে এআই খাতের বড় প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইও সম্প্রতি প্রযুক্তিটির উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, শিল্পখাতের নেতাদের একসঙ্গে কাজ করে এমন পথ এড়িয়ে চলতে হবে, যার পরিণতিতে এআই মানবজাতির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ওবামা বলেন, এআই চিকিৎসা, জ্বালানি ও শিক্ষায় বড় ধরনের অগ্রগতি আনতে পারে। আবার ব্যাপক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বৈষম্য ও বিপর্যয়ের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। প্রযুক্তিটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এখন নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর এবং এসব সিদ্ধান্ত শুধু সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো নয়, সবার অংশগ্রহণেই নেওয়া উচিত।
এদিকে ২০২৮ সালের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিগিগও এআই নিয়ে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। রোববার এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কংগ্রেসের নিষ্ক্রিয় থাকা এবং হোয়াইট হাউসের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া মার্কিন জনগণ ও বিশ্বের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এআইয়ের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মকানুন, সীমা এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এআই বন্ধ করার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/